আজ (গত) কাল
কালো কফি চিনি ছাড়া... কালো চা, চিনি ছাড়া..
একগাল দাড়ি, মাথায় পাগড়ি... Clean Shaved, পাগড়ি নেই
শর্টকাট প্রেম, শর্টকাট ছাড়াছাড়ি শর্টকাট এর কথা ভাবাই যায় না।
এই সমস্ত হিজিবিজির মানে যারা সিনেমাটা দেখেছে তারাই কিছুটা বুঝতে পারছে/পারছেন... বাকিদের কাছে “হা হতস্মী”... সিনেমাটা দেখে নিলে অসুবিধে হবে না। হ্যাঁ তার মানে সিনেমাটা দেখতে বলছি...
তা প্রায় অনেক দিন পর একটা বলিউড কমার্শিয়াল ফিল্ম কাউকে দেখতে বলছি... গত কয়েক মাসে পর পর যেকটা সিনেমা দেখলাম “Kambakht Ishq”, "Short Cut", "Jugad", "Luck", "99" ইত্যাদি... বাপরে!... মনে হচ্ছিল নিজেকে আগের জন্মের অনেক পাপের ফল ভোগ করছি...
যাই হোক এবার আসি “Love Aaj Kal” এর কথায়... পরিচালক ইমতিয়াজ আলিকে ধন্যবাদ... এককথায় একটা আদ্যপ্রান্ত ভালো ছবি বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই ... “Jab We Met” দেখার পর থেকে পরিচালকের ওপর expectation টা বেশিই ছিল, সেদিক থেকে ফুল মার্কস... “Jab We Met” এ যেটা দেখেছিলাম একটা সাদামাটা প্রেমের গল্পকে কতটা ভালো ভাবে execute করা যায়, এবার গল্পটা প্রেমেরই কিন্তু অতটা সাদামাটা নয়, সঙ্গে একটি প্রচন্ড ভালো চিত্রনাট্য...
গল্পটা “আজ” আর “কাল” এর ... আজকের প্রেম ও (গত)কালকের প্রেম... জয়(সইফ) আর মীরা (দিপিকা) লন্ডনে থাকে ... সিনেমার প্রথম সাত-আট মিনিটের মাথায় তাদের প্রেম, পনের মিনিটের মাথায় ছাড়াছাড়ি... এটা ঠিকঠাক ভাবে দেখানোর জন্য বিরাট ক্ষমতা দরকার... এবং ক্ষমতার পুরোপুরি সদব্যবহার করেছেন পরিচালক... জয় আর মীরা নিজেদের কেরিয়ার গড়তে মিউচুয়ালি আলাদা হয়ে যায়... মীরা ইন্ডিয়া চলে আসে old historical places restoration এর কাজ করতে, জয় লন্ডনের থেকে
San Fransico’s Golden Gate Co. তে তার স্বপ্নের চাকরির জন্য prepare করতে থাকে । তারা আলাদা হয়ে গেলেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ থাকে ... নেটে, ফোনে মাঝে মধ্যেই তাদের কথাবার্তা হয় ...
এত অবধি সব সাধারনই চলছিল ... এই সমস্ত ব্যপারের মাঝখানে রেস্টুরেন্টের মালিক বীর সিং (ঋষি কাপুর) চুপচাপ সব লক্ষ্য করতে থাকে ... কারন জয় আর মীরার ব্রেক আপ এর পার্টিটা হয়েছিল তার রেস্টুরেন্টেই ... বীর সিং জয়কে বলে যে সে ভুল করছে...
আর এখানেই আসে গল্পের আসল মোড় ... এর পর বীর সিং বলা শুরু করে নিজের গল্প... ২০-২৫ বছর আগেকার প্রেমের গল্প... আর পরিচালকের অসাধারন দক্ষতায় কখন যে দুটো গল্প মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় যে ঋষি কাপুরের কমবয়সে সইফ এর মত দেখতে হওয়াটাও কোথাও যেন justified হয়ে যায়... প্রচন্ড ভালো Treatment , চিত্রনাট্য আর সংলাপ দর্শকদের কে একটা নতুন ধরনের অনুভুতি দেয়...
বাকিটা “হতে হতে হলনা টাইপ ব্যাপার” কিন্তু শেষ পর্যন্ত............. সেটা নাহয় নাই বললাম ...
পরিচালক খুব ভালো ভাবে জানেন যে দর্শক কি চায় ... ঠিক মেপে মেপে পুরো সিনেমা জুড়ে সেটাই দিয়ে গেছেন... সইফ আর দিপিকার চুমুর কথা না বললে পুরোটা বলা হয়না। তবে চুমুগুলোও খুব রোমান্টিক, ইমরান হাসমির আদিখ্যেতা টাইপ নয়...
সইফ আলি খান নিসন্দেহে ভালো অভিনেতা, কিন্তু চমকটা হল দিপিকা পাড়ুকোন, দুজনেই ফাটাফাটি...
ঋষি কাপুরও অসাধারন... সইফ বা দিপিকা যদি এইবারের দু একটা অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে স্টেজে ওঠেন তাহলে অবাক হব না ...
ভালো ...
আগেই বলেছি ... তবুও একবার সংক্ষেপে ...
- খুব ভালো চিত্রনাট্য -****(৪/৫)
- অসাধারন সংলাপ -*****(৫/৫)
- খুব ভালো অভিনয় -*****(4৪.৫/55৫)
- অসাধারন পরিচালনা -*****(৪.৫/৫)
- দুর্দান্ত Starting Credits -*****(৪.৫/৫)
- ভালো সিনেমাটোগ্রাফি -****(৪/৫)
খারাপ ...
খারাপ বের করাটা মুশকিল ... পেলে লিখব ...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন